“স্বপ্নের জাল বোনা” বইটি সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ অনেকের অনেকে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় বাস্থবায়ন হয়না। ঠিক এমনই একটি স্বপ্নের কথা বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মজিবর মিয়া এজি অফিসের অবসরপ্রাপ্ত একজন। কেরানি পুরােনাে ঢাকার কানাগলিতে বাবার কেনা একটা জীর্ণ বাড়িতে বসবাস করেন। সারাক্ষণ তার চেহারায় বিরক্তির ছাপ। চাকুরিরত অবস্থায় মতিঝিল কলােনিতে প্রকাণ্ড মাঠ সংলগ্ন খােলামেলা জায়গায় বসবাস করতেন। এখন শুধু চারদিকে পচা নর্দমার উৎকট গন্ধে পেট ফুলিয়ে বসে থাকতে হয়। একে তাে জায়গা পরিবর্তনের বিড়ম্বনা তার ওপর ছেলেমেয়েদের উদ্ভট কাণ্ডকীর্তি তাকে আরও বিচলিত করে রাখে। বড় ছেলে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে মৎস্যশিকারি। মেজ ছেলে ভালাে ছেলে হলেও তার ঠিকানা কাকরাইল মসজিদ। আর ক্লাস নাইনে পড়া ছােট মেয়েটি এই বয়সেই নায়িকাদের মতাে সাজগােজ করে ঘুরে বেড়ায়। মজিবর মিঞার একমাত্র ভরসাস্থল তার বড় মেয়ে ঝিনুক। লেখাপড়ায়, বুদ্ধিমত্তায়, রুচিশীলতায়, ভদ্রতাশুদ্ধতায় সবার সেরা। চাকরিও করে বড় একটা কোম্পানিতে। সেখানেই চমৎকার একটি ছেলের সঙ্গে তার পরিচয় এবং বন্ধুত্ব হয় গল্প। মােড় নেয় অজানা গন্তব্যের দিকে। নিজের বােনা স্বপ্নজালে নিজেই জড়িয়ে পড়ে ঝিনুক। পেশাগত জীবনে উন্নতির চরম শিখরে উঠলেও ব্যক্তিজীবনে সে ক্রমেই কোনাে-এক অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে থাকে। পারবে কি ফিরতে সেখান থেকে... ?
টাঙ্গাইল জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের থানা নাগরপুর। এরই দক্ষিণ সীমানা ঘেঁষা এক নিভৃত পল্লির অজপাড়াগাঁ বাড়িগ্রাম। যোগাযোগ অত্যন্ত নাজুক। এ গ্রামে ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে অতি সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আলী হাসান। বাবা মরহুম মারফত আলী ব্যবসায়ী, মা মোছাম্মত জিরাতন্নেছা অত্যন্ত মেধাবী ও হস্তশিল্পে পারদর্শী। মায়ের প্রচেষ্টায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাস্তর অতিক্রম করে নাগরপুর কলেজ থেকে ১৯৮৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যয়ন শুরু। বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালে বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম এবং নাট্যগোষ্ঠির সংস্পর্শে আসার সুযোগ ঘটে। লেখালেখি শুরুও তখন থেকেই। ১৯৮৮ সালে স্নাতক এবং ১৯৮৯ সালে নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর অধ্যাপনা পেশায় নিয়োজিত। বর্তমান গ্রন্থের অনেকগুলো প্রবন্ধ বিভিন্ন সময়ে ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম সম্পাদিত ‘বিজ্ঞান সাময়িকী’, ‘দৈনিক প্রথম আলো’, ‘দৈনিক সমকাল’ পত্রিকায় প্রকাশিত।