দাম্পত্যের অন্তরালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ। তার লেখায় মানবতা, দ্রোহ, প্রেম-ভালােবাসা, সুখ-দুঃখ, দেশপ্রেম এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ। গল্পগ্রন্থ নামকরণ শব্দের অর্থকে ধারণ করেই দাম্পত্যের অন্তরালে গল্পগ্রন্থটি সাজানাের চেষ্টা। বইটির গল্পগুলাে নিছক গল্প বলার উদ্দেশ্যে লেখা হয়নি। পারিবারিক সুখ-দুঃখের নানাবিধ ঘটনা সহজ-সরল শব্দ ও বাক্যে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে ৬টি গল্পে রয়েছে। প্রতিটি গল্পেই প্রেম ও দ্রোহের সাধারণ ঘটনাকেই একজন অদৃশ্য সাক্ষীদাতার মতাে বাস্তবসম্মতভাবে কলমবৃক্ষের মাধ্যমে জানান দেওয়ার প্রয়াস। যে সাধারণ ঘটনাগুলাে সমাজের রক্তচক্ষুর অন্তরালে থেকে যায়; সমাজ প্রকৃতি ও মানব যৌবনের সহজ আকুতি ফুটে ওঠেছে প্রতিটি গল্পে। সময়ের করাল গ্রাসে দিনদিন কীভাবে আড়ালে থেকে যাচ্ছে। প্রেমিক-প্রেমিকার আবেদন, স্বামী-স্ত্রীর লােকদেখানাে সম্পর্কের আড়ালে জীবনের কঠিন মূহুর্ত। এই সব বিষয়গুলাে নিয়েই, পরিবারের গােপন কাব্যিক রহস্য তা উন্মােচিত হয়েছে বইটির পাতায় পাতায়। বইটি পড়লেই একজন পাঠক পারিবারিক নানান বিষয়ে জানতে পারবে জানা-অজানা অনেক প্রশ্নের উত্তর। সেই সাথে বুঝতে পারবে সময়ের চাকায় পিষ্ট হয়ে কীভাবে বদলে যায় মানুষ, বদলে যায় প্রেম, প্রেমিক-প্রেমিকা ও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। অভাবের তাড়নায় কি করে নিজের চাওয়া-পাওয়াকে বিসর্জন দিতে শিখে যায় ব্যর্থ মানুষ। ব্যর্থ মানুষ কখনাে কখনাে কীভাবে হয়ে ওঠে পাথরপুরুষ। আশা করি বইটির আবেদন পাঠককে আমােদিত করবে।
মানুষ জন্মসূত্রে একটা নাম পায়। নামধারী ব্যক্তিটি কোনো না কোনোভাবে তার নাম পরিচিতি প্রতিদিনই সম্প্রসারণ করে যায়। কোনো কোনো সময় সেটা তার অজান্তেই ঘটে। আবার ব্যক্তিটি তার মনুষ্য জীবনের প্রয়োজনে পরিপুষ্ট করে, প্রস্ফুটিত করে। ফখরুল হাসান তাঁদের একজন।
তিনি শেকড়-সন্ধানী লেখক, লোকসংস্কৃতি গবেষক ও সংগ্রাহক। জন্মের শেকড় নরসিংদী’র রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামে; ১৫ মার্চ ১৯৮২ সালে। পিতা হাফেজ আবদুল ওয়াহাব, মাতা- আনোয়ারা বেগম। গ্রামীণ পরিবেশে তাঁর বেড়ে ওঠা। তারুণ্যের সূচনালগ্ন থেকেই কবিতা এবং প্রবন্ধের মাধ্যমে সাহিত্যে যাত্রা। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, সাময়িকীতে প্রতিবেদন প্রবন্ধসহ অনেক সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয়েছে। একজন সাহিত্যিকই নন, তাঁকে একজন চৌকষ সমাজদ্রষ্টাও বলা যায়। ছাত্র জীবন থেকে স্বাধীন বাংলার রূপকার শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে তার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকবোধের স্ফূরণ ঘটে।
তাঁর সম্পাদিত ‘মেঘনা পাড়ের রায়পুরা’ ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি লোক গবেষণামূলক গ্রন্থ। এছাড়াও ২০২৪ সালে তাঁর সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ ‘নরসিংদীর আঞ্চলিক শব্দকোষ’ প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধ/গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘প্রতিভা প্রকাশ সাহিত্য পুরস্কার-২০২৪’ অর্জন করেছেন।
অসংখ্য প্রবন্ধ লিখে বিদগ্ধজনের দৃৃষ্টি কেড়েছেন। সাদামাটা জীবন যাপনে সদা হাস্যোজ্জ্বল এবং ব্যক্তিজীবনে বিনয়ী, শান্ত প্রকৃতির মানুষ। সকালে জেগে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুমানোর আগপর্যন্ত বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন স্মারক মুদ্রা, কাগজি নোট, কয়েন, ডাকটিকেট-সহ লোক সংস্কৃতি অনুসন্ধানের মাধ্যমে নরসিংদীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত দুর্লভ তৈজষপত্র নিদর্শন সম্ভার নিয়ে নিজের বাড়িতে গড়ে তুলেছেন একটি ‘সংগ্রহশালা’। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে এবং আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ভূষিত হয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননায়। শিল্প-সাহিত্য-লোকসংস্কৃতি বিষয়ক সাময়িকী ‘চিৎপ্রকর্ষের’ সম্পাদক। ব্যক্তি জীবনে সহধর্মিনী সামসুন্নাহার লুনা, পুত্র-ওয়াসিফ আল হাসান প্রহরকে নিয়ে তাঁর সংসার।