ছায়ামূর্তিটিকে দেখার পর থেকে ডিয়াগো ডি লান্ডা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ডাইনি, প্রেতাত্মা, শয়তানের উপাসক ইত্যাদিদের ব্যাপারে তার জ্ঞান কম না। কিন্তু কখনও সরাসরি এদের উপদ্রব কোথাও দেখেননি এবং এই ছায়ামূর্তিটির মতো ভয়ংকর কিছু তিনি কল্পনাও করেননি।
এই শহর প্রতিষ্ঠা করার আগে থেকেই কনকুইস্ট্রেডরদের ইচ্ছা ছিল মায়াদের রোমান ক্যাথলিক ধর্মবিশ্বাসে নিয়ে আসা। এজন্য কিছু লোককে নিয়োজিত করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তেমন কিছু করতে পারেনি।
তার ওপর গুরুদায়িত্ব, অসভ্য মায়ান লোকগুলোকে রোমান ক্যাথলিক বিশ্বাসে বিশ্বাসী করে তোলা। এ কাজ করতে হিমসিম খাচ্ছেন কৃষ্ণকায় এই ফ্রান্সিসকান মোনক। এর মাঝে ঘটছে অদ্ভুত কিছু ঘটনা।
ঘটনাটির শুরু মূলত কিছুদিন আগে।
ডিয়াগো ডি লান্ডা গির্জার পাশে তার কক্ষে ছিলেন। জানলা দিয়ে দেখতে পেলেন কয়েকজন স্প্যানিশ সৈন্য গির্জার সামনের একটা পিরামিডের কাছে জড়ো হয়ে কী একটা জিনিস দেখেছে। তিনি বের হয়ে তাদের কাছে গেলেন। ডি লান্ডা জিজ্ঞেস করলেন, 'কী হচ্ছে এখানে?”
একজন বলল, ‘ফাদার, আমরা এই জিনিসটি খুঁজে পেয়েছি।'
সে নীচে মাটির দিকে নির্দেশ করল। কিছু জায়গা খোঁড়া হয়েছে । এই জায়গা খুঁড়তে গিয়েই বের হয়েছে বস্তুটা। ডি লান্ডা দেখতে পেলেন মাটিতে পড়ে আছে একটি মাথার খুলি। তিনি বসে খুলিটি হাতে নিলেন। এটি কোনো মানুষের মাথার খুলি না। ধাতু দিয়ে নির্মিত খুলি। চোখের অংশে কোয়ার্টজ।
ডি লান্ডার খুলিটি ভালো লেগে গেল। তিনি খুলিটিকে নিয়ে আসলেন তার ঘরে। ধুয়ে রেখে দিয়েছেন। লেগে থাকা মাটি পরিষ্কার হয়ে যাবার পর খুলিটি যেন চকচক করছে।
কিন্তু এই খুলিটি ঘরে আনার পরেই অদ্ভুত কিছু ঘটে চলেছে।
মুরাদুল ইসলাম একজন লেখক, ক্রিটিক, বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং চিন্তক। সিলেটে জন্ম নেওয়া মুরাদুল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন এবং পলিটিক্যাল বিজ্ঞাপন কৌশল নিয়ে কাজ করেন। তার লেখায় উঠে আসে মানুষের জীবন, সমাজ, রাজনীতি এবং দর্শনের নানা দিক। তিনি গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধের মাধ্যমে মানুষের অভিজ্ঞতা, সামাজিক বাস্তবতা এবং অস্তিত্বের প্রশ্নগুলোকে তুলে ধরতে, ও বিশ্লেষণ করতে পছন্দ করেন। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে "মার্চ করে চলে যাওয়া একদল কাঠবিড়ালী", "এখানে জাদু শেখানো হয়", "নিমাত্রা পীরছাব ও অন্যান্য গল্প", "জাদুকরের কেবিন থেকে" এবং "কতো শতো মুখ"। তিনি তার ওয়েবসাইট, এবং সাবস্ট্যাক নিউজলেটারে সাইকোলজি, সাহিত্য, দর্শন, ফিল্ম ও টেকনোলজি বিষয়ে নিয়মিত লেখা প্রকাশ করে থাকেন।