ট্রেনটা হাওড়ায় আসার কথা বিকেল পাঁচটায়! অ্যারাইভাল টাইম যাই থাক, রাস্তায় ‘রেল রােখাে” আন্দোলনে ছ ঘণ্টা আটকে থাকায় পৌছতে পৌছতে রাত এগারােটা হয়ে গেল। পেছন দিকের একটা রিজাভ-করা কম্পার্টমেন্ট থেকে সুনীতারা পাঁচটি মেয়ে হাতে সুটকেস এবং কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে প্ল্যাটফর্মে নেমে আসে। ইন্টার-ইউনিভার্সিটি বাস্কেটবল টুনামেন্টে খেলার জন্য তারা দিল্লী গিয়েছিল দিন দশেক আগে আজ ফিরছে। টীমে সবসদ্ধ, ছিল আটটি মেয়ে, একজন কোচ এবং একজন ম্যানেজার। একসঙ্গে দশজনের রিজাভেশান পাওয়া যায়নি। তাই দু- ভাগে ভাগ হয়ে পাঁচজন আজ চলে এসেছে ,বাকি পাঁচজন কাল ফিরবে। টীমটা মেয়েদের হলেও কোচ এবং ম্যানেজার পরষে। তাঁরা পাঁচটি মেয়েকে আলাদা করে আসতে দিতে চাননি। দিনকাল ভালো না বিশেষ করে রাস্তাঘাটে মেয়েদের নিরাপত্তা প্রায় নেই বললেই হয়। হামলা-কারীরা সারাক্ষণ ওত পেতে আছে। অরক্ষিত মেয়েদের পেলেই তারা জন্তুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্বাধীন ভারতে যৌনক্ষধাতুরদের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তা ভয়াবহ। কোচ প্রবীর সেন আর ম্যানেজার চিন্ময় রক্ষিতের দুভাবনাকে সুনীতারা একেবারে আমল দেয়নি। বলা যায় প্রায় তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দিয়েছে। সুনীতা হেসে হেসে বলেছে, চিন্তা করবেন না প্রবীরদা, চিন্ময়দা। আমরা অক্ষত দেহে সেফলি কলকাতায় পৌছে যাব। নিজেদের প্রােটেক্ট করার ক্ষমতা আমাদের আছে। বাস্কেট বল টীমের এই মেয়েরা, বিশেষ করে সুনীতা দারুণ, বেপরােয়া, দুঃসাহসী এবং একরােখা। বেশ কয়েকবার এমন সব বিপদে সে পড়েছিল যার ফলে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারত।
তিনি অবিভক্ত ভারতের পূর্ব বাংলার (অধুনা বাংলাদেশ) ঢাকা জেলায়, বিক্রমপুরের আটপাড়া গ্রামে ১১ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন, স্বাধীনতার পর ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে চলে আসেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পূর্ব পার্বতী' (১৯৫৭)। উপন্যাস রচনার জন্য তিনি সারা জীবন অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। 'সিন্ধুপারের পাখি'র জন্য ১৯৫৮ তে পেয়েছেন পুরস্কার, 'ক্রান্তিকাল' এর জন্য ২০০৩ এ অকাদেমি পুরস্কার। প্রফুল্ল রায় এর উদ্বাস্তু জীবনকেন্দ্রিক যে সমস্ত উপন্যাসগুলি রচিত সেগুলি হল ‘কেয়াপাতার নৌকা’ (২০০৩), ‘শতধারায় বয়ে যায়’ (২০০৮), ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ (২০১৪), ‘নোনা জল মিঠে মাটি’ (বাং ১৩৬৬)। ‘কেয়াপাতার নৌকা’, ‘শতধারায় বয়ে যায়’, ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ আকারে এবং নামে আলাদা হলেও আসলে তিনটি উপন্যাস মিলেই একটি উপন্যাস, ‘কেয়াপাতার নৌকো’র পরবর্তী খণ্ড ‘শতধারায় বয়ে যায়’ এবং তারও পরবর্তী খণ্ড ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’। তিনটি উপন্যাসই আকারে মহাকাব্যিক। অসামান্য ক্ষমতা সম্পন্ন এইঔপন্যাসিক সারা জীবন জুড়ে পুরস্কারও পেয়েছেন প্রচুর। 'সিন্ধু পারের পাখি'র জন্য ১৯৮৫ তে 'বঙ্কিম পুরস্কার', 'ক্রান্তিকাল' উপন্যাসের জন্য ২০০৩ এ পেয়েছেন 'সাহিত্য অকাদেমি' পুরস্কার, এছাড়াও 'রামকুমার ভুয়ালকা', পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলার্স গিল্ড এর 'লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট', 'শরৎস্মৃতি', 'বি কে জে এ' ইত্যাদি সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তার গল্প উপন্যাস অবলম্বনে রচিত হয়েছে ৪৫টির মতো টেলিফিল্ম, টেলি-ধারাবাহিক, ফিচার-ফিল্ম। 'মোহনার দিকে' অবলম্বনে 'মোহনার দিকে' (১৯৮৪), 'আদমি আউ আউরত' (১৯৮৪), 'একান্ত আপন'(১৯৮৭), 'চরাচর'(১৯৯৪), 'টার্গেট' (১৯৯৭),'মন্দ মেয়ের উপাখ্যান' (২০০৩), 'ক্রান্তিকাল'(২০০৫) ইত্যাদি উল্ল্যেখযোগ্য। 'মন্দ মেয়ের উপাখ্যান 'Best ASEAN film Award', 'Netpac Award', ও 'Golden Lotus Award'পায়। 'ক্রান্তিকাল' পায় 'Indian compitional Special Mention' পুরস্কার।