নিবাে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মেয়েটির দিকে। টানা চোখ, টিকালাে নাক আর লম্বা চুলে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে মেয়েটিকে। বেশি সুন্দর লাগছে শরীরের হালকা সবুজ রঙের কারণে। যখন মেয়েটির কণ্ঠ শুনল এবং নাম জানতে পারল ‘নিলি’, তখন আরও বিস্মিত হলাে সে। একজন মেয়ের কষ্ঠ এত সুন্দর হয় কীভাবে ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নতুন রূপে নিলিকে দেখে চমকে উঠল নিবাে। নিলি এখন আর সময়, সােনালি। সােনালি নিলি সবুজ নিলির থেকে অনেক অনেক। সুন্দর। এত সুন্দর যে শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে ঘন্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে, হারিয়ে যেতে দূরে অনেক দূরে, লাল, নীল কিংবা সবুজ জিজিল নামক গ্রহ-উপগ্রহে। নিবাে যখন নিলির সঙ্গে এক জিজিল থেকে অন্য জিজিলে ঘুরে বেড়াতে ব্যস্ত, তখন তাদের পথে বাধা হয়ে দাড়াল মিমিচুন গ্রহের উন্নত বুদ্ধির রােবটেরা। তারা নিলিকে জিজিল থেকে দূরের কোনাে গ্রহে পাঠিয়ে দিতে চায়, আর খুজে বের করতে চায় নিবােকে। কারণ জিজিল গ্রহে নিবাের বেচে থাকার কোনাে অধিকার নেই। এদিকে নিবােকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠে নিলি। একটার পর একটা কৌশল অবলম্বন করতে থাকে সে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠে না। রােবটদের কাছে ফাস হয়ে যায় তার চতুরতা। পরিণামে বিচ্ছেদ ঘটে নিবাে আর নিলির। শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল নিবাে আর নিলির জীবনে ? আবার কি তারা ফিরে পেয়েছিল আনন্দ আর ভালােবাসায় ভরা জিজিলের রঙিন জীবন ? নাকি তারা হারিয়ে গিয়েছিল দূর মহাশূন্যের নিকষ কালাে অন্ধকারে ?
লেখক মোশতাক আহমেদ এর জন্ম ১৯৭৫ সালেল ৩০ ডিসেম্বর, ফরিদপুর জেলায়। তিনি ঢাকা ভার্সিটির ফার্মেসী বিভাগ হতে মাষ্টার্স এবং আইবিএ হতে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের লেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ক্রিমিনোলজিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি সাহিত্যপ্রেমী, লেখালেখির প্রতি আগ্রহ আকাশচুম্বী। তার প্রথম উপন্যাস জকি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। সায়েন্স ফিকশন লেখক হিসেবে সুপরিচিত হলেও নিয়মিত গোয়েন্দা, ভৌতিক, প্যারাসাইকোলজি, মুক্তিযুদ্ধ, কিশোর ও ভ্রমণ উপন্যাসও লিখে চলেছেন। বিভিন্ন জনরায় লেখালেখির জন্য বহুমাত্রিক লেখক হিসেবেও তিনি সর্বজনবিদিত। তার রচিত উপন্যাসের সংখ্যা শতাধিক। বাংলাসাহিত্যে অনবদ্য অবদানের জন্য তিনি ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি কালি ও কলম সাহিত্য পুরস্কার, চ্যানেল আই সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরুস্কারও লাভ করেন।